প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কত টাকা লোন নেওয়া যায়?

এই আর্টিকেলে আপনারা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কত টাকা লোন নেওয়া যায় তা জানবো। এবং প্রবাসী কল্যান ব্যাংকের লোন সম্পর্কে যত তথ্য আছে সব পাবেন এই আর্টিকেলে। আপনি এই লিংক থেকে প্রবাসী কল্যান ব্যাংকের টিকানা জেনে নিতে পারবেন।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের লোনের প্রকারভেদ

  1. অভিবাসন ঋণ
  2. পূর্নবাসন ঋণ
  3. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সাধারণ ঋণ (২০২১)
  4. বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ

অভিবাসন ঋণ মূলত বিদেশগামী যাত্রীর জন্য। এই ঋণের শর্ত গুলো খুব সহজ। নিচে আলোচনা করা হল।

অভিবাসন ঋণের শর্ত

অভিবাসনের জন্য ঋণ নিতে অবশ্যই আপনার ভিসা থাকতে হবে। আপনি ভিসা ছাড়া এই ঋণ নিতে পারবেন না,

কত টাকা লোন নেওয়া যায়?

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে আপনি নতুন ভিসা দিয়ে সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা লোন দিতে পারবেন

রি ইস্যু ভিসা দিয়ে এই ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা লোন নিতে পারবেন

অভিবাসন ঋণের মেয়াদকাল

যারা নতুন ভিসা দিয়ে অভিবাসন ব্যাংক থেকে লোন নেবে তাদের মেয়াদকাল থাকবে তিন বছর।

এবং রি ইসু ভিসা দিয়ে লোন নিবে এই ঋণের মেয়াদকাল থাকলে সর্বোচ্চ দুই বছর.

অভিবাসন ঋণ নিতে কি কি কাগজ লাগবে

  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৪ কপি)
  • পাসর্পোটের ফটোকপি
  • ইস্যু হওয়া ভিসা
  • এনআইডির ফটোকপি
  • সাক্ষীর সাক্ষরিত চেক বইয়ের তিন পাতা
  • সাক্ষীর ছবি, এন আই ডি।
  • ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি

মোটমুটি এই কাগজ গুলো জমা দিতে হবে আপনার নিকটস্থ একটি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে। এবং বলা হয় (প্রবাসী কল্যান ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী) আপনি এই ঋণ টি পেয়ে যাবেন সর্ব্বোচ্চ ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে।

পূর্ণবাসন ঋণ কি?

পূর্ণবাসন ঋণ হলো বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের জন্য। যারা বিদেশ থেকে এসে দেশে কোনো কাজ, ব্যবসা বা প্রতিষ্টান দিতে চায় তাদের জন্য এই ঋণ। যারা বিদেশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরেছে। তাদের কোনো ধরনের ইনভেস্টমেন্ট নাই তাদের জন্য সরকারের এই পূর্ণবাসন ঋণ।

পূর্ণবাসন ঋণ কারা নিতে পারবে?

বিদেশ ফেরত যে কেউ এই ঋণ নিতে পারবে। যারা বৈধ কাগজ পত্র ধারণ করে সুধু তারা।

আপনি যদি বিদেশ থাকেন। এবং আপনার ভিসা টি বৈধ হয়। তাহলে আপনি এই ঋণ টি নিতে পারবেন।

পুনর্বাসন ঋণের পরিমাণ

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে আপনি পূর্নবাসন লোন সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ ( ৫০০০০০) টাকা ঋন নিতে পারবেন।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে সাধারণ মানুষের জন্য ঋণেে স্কিম দেওয়া আছে সেটা হলো প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সাধারণ ঋণ। যেকোনো সাধারণ মানুষ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণনিতে পারবেন।

ঋণের সময় সীমা

সাধারণ ঋণের সময় সীমা হলো সর্ব্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা।

ঋণের মেয়াদকাল

সাধারণ ঋণের মেয়াদকাল সর্বোচ্চ ১০ বছর।

সুদের হার

সুদেে হার হলো ৯% এবং সুদের ধরন হলো সরল সুদ

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সাধারণ ঋণ (২০২১)
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সাধারণ ঋণ (২০২১)
  • ঋণ আবেদনপত্র (নির্ধারিত ফরমে)
  • আবেদনকারীর সদ্য তোলা ০৩ (তিন) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি/পাসপোর্ট/ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ।
  • বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা সম্বলিত পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্র।
  • গ্যারান্টরের সদ্য তোলা ০২ (দুই) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি/পাসপোর্ট/ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ, বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা সম্বলিত পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্র।
  • হাল নাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (If aplicable)।
  • প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণসহ প্রকল্পের ঠিকানা (আয়-ব্যয় বিবরণীসহ)
  • নতুন প্রকল্প হলে সম্ভাব্য আয়-ব্যয় বিবরণী।
    • প্রকল্পের স্থানঃ
  • দোকান/গোডাউন ভাড়ার ক্ষেত্রে চুক্তি পত্র এবং Letter of Disclaimer সাথে নিতে হবে
  • নিজস্ব হইলে মালিকানার প্রমাণপত্র।
    • ঋণ সংক্রান্ত তথ্যাবলীঃ-
  • ব্যক্তিগত ঋণের বিবরণ (অন্য কোন ঋণ থাকলে তার বিবরণী)।
  • কোন সংস্থা, এনজিও, ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে থাকলে তার বিবরণ।
  • ঋণ খেলাপী কিনা (হ্যাঁ/না)। কর দিয়াইসি বাবার Agreement হওয়া পর্যহ ঋণ গহীতাদের সিআইবি রিপোর্ট বাতীত

ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। প্রতিটি আবেদন ফরমের মূল্য=২০০/- টাকা। ঋণ গ্রহীতাকে ঋণ গ্রহণের সময় ১% প্রসেসিং ফি (সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা) এবং ১% সার্ভিস চার্জ (সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা) প্রদান করতে হবে। সার্ভিস চার্জ ও গ্রেস পিরিয়ডের সুদ কিস্তির সাথে আদায় করতে হবে।

ক) ঋণ পরিশোধে সক্ষম ঋণ আবেদনকারীর পিতা/মাতা/স্বামী/স্ত্রী/ভাই/বোন/নিকটতম আত্নীয় এবং ঋণ পরিশোধে সক্ষম এমন ব্যক্তি যিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল ও সমাজে গণ্যমান্য তিনিও গ্যারান্টর হতে পারবেন।

সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত সুদের হার অত্র ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সুদের হার হবে পুরুষ ঋণ গ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ০৯% এবং মহিলা ঋণ গ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ৭% (সরল সুদ)।

  1. ক) বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  2. প্রকল্প/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এলাকায় অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখায় ঋণের আবেদন করতে হবে।
  3. অভিবাসী পরিবারের যে সদস্য বিদেশে আছেন। দেশে প্রত্যাগমন করেছেন তার প্রমাণপত্র সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র (পাসপোর্ট বহির্গমণ সীলযুক্ত পাতাসহ, ভিসার কপি/স্মার্টকার্ড/ অন্যান্য কাগজপত্র) ফটোকপি।
  4. অভিবাসী/দেশে প্রত্যাগত ব্যক্তির অনুরোধপত্র নিতে হবে।
  5. অন্য কোন ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠান/ এনজিও অথবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না (শাখার অধিক্ষেত্রের ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে গোপনীয় মতামত নিতে হবে)।
  6. উম্মাদ, দেউলিয়া, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামী ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
  7. বয়সঃ ১৮-৬০ বছর।

বাংলাদেশী কোন নাগরিক বৈধ ভাবে চাকুরীর উদ্দেশ্যে বিদেশে অবস্থান করলে ঐ ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল পরিবারের যে কোন সদস্য (পিতা, মাতা, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, ভাই, বোন) এবং বিদেশ হতে প্রত্যাগমন করলে সে ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি বা তার উপর নির্ভরশীল পরিবারের যে কোন সদস্য (পিতা, মাতা, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, ভাই, বোন) কে ব্যাংক সহজ শর্তে জামানতবিহীন/জামানতসহ ঋণ প্রদান করবে যা বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ হিসাবে বিবেচিত হবে।

বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ
বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ

বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ কত টাকা নেয়া যাবে?

একজন ঋণ গ্রহিতা সর্বোচচ ৫০ লক্ষ টাকা ঋণ নিতে পারবে।

Leave a Comment